রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১

ছাত্র রাজনীতি বনাম সন্ত্রাস / শাহেরীন আরাফাত

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সোনালী ইতিহাস ছাত্রদের আন্দোলনের কাছে অসাধারন ঋনী। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে স্বাধীনতার পরে ছাত্ররাজনীতির কোনো স্বচ্ছ এবং গঠনমুলক ধারা গড়ে উঠেনি আমদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ছাত্র রাজনীতির সর্বশেষ অবদান ছিল ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধি আন্দোলনে। কিন্তু এরপরই মূলতঃ পথ হারিয়ে ফেলে দেশের শীর্ষ ছাত্র সংগঠনগুলো। দলীয় রাজনীতি আর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিনত হয়েছে বারবার যুদ্ধক্ষেত্রে। এর সাথে চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, ভর্তি বানিজ্য এসব তো আছেই। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষে ছাত্রছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা সারা পৃথিবীতে বিরল হলেও বাংলাদেশে প্রায় নিত্য নৈমিত্যিক ঘটনা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালগুলোর সেশন জট নামক বিষয়টা কত অদ্ভুত আর অপরিচিত তা কেবল বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে তাকালেই টের পাওয়া যায়।
এই বিষয়ে ২০০৭ সালের ছাত্র আন্দোলনকে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনাই বলতে হবে, যেখানে ছিল প্রকৃত ছাত্রদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ। যদিও তখন আমাদের তথাকথিত রাজনীতিকরা ছাত্রদের সক্রিয় আন্দোলনকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। আর তাদের হীন আচরনের জন্য এবং ছাত্রদের যোগ্য নেতৃত্ব(কারণ ছাত্রদের সংগঠনগুলো মূলতঃ রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুরবৃত্তি) না থাকায় ঐ আন্দোলন এগুতে পারেনি, বা পুরোপুরি সফল হয়নি। তবে প্রকৃত ছাত্রদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ আর্মি শাসিত তত্তাবধায়ক সরকারের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিল।

বর্তমানে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক তথাকথিত ছাত্র রাজনীতির তান্ডবে ফের অশান্ত হয়ে ওঠেছে দেশের শিক্ষাঙ্গন। এর উত্তাপ গিয়ে লেগেছে জাতীয় রাজনীতিতেও। ২০০৯ সালের ১১ মার্চ ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে মারা যান শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্রেটারি নোমানী। এর ধারাবাহিকতায় গত ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১০ সালে একই ধরনের আরেকটি সংঘর্ষে মারা যান ছাত্রলীগ নেতা ফারুক। প্রতিদিনই চলছে কোথাও না কোথাও সংঘর্ষ অথবা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংঘর্ষের কারণেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হয়। ভর্তি কার্যক্রম সঠিকভাবে চালাতে পারছেনা প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়াও চাঁদাবজি, টেন্ডারবাজি, ভর্তি বাণিজ্য, ক্ষমতার লড়াই ও হল দখলসহ অপরাধের সব শাখায়ই রয়েছে ছাত্রনেতাদের অবাধ বিচরণ। অপরাধের বৃত্তে বন্দী এখন ছাত্র রাজনীতি। স্বার্থ নিয়ে অর্ন্তকলহ আর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে তারা। আর এর শিকার হচ্ছেন একের পর এক শিক্ষার্থী। ঘটছে জঘন্য হত্যাকান্ড। প্রতিটি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন এসবে জড়িয়ে পড়ছে। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই ৭৩ টি হত্যাকান্ড হয়েছে। সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে ঝরে গেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু বকর। আবু বকরকে নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত ছাত্রলীগের হাতে আটজন খুন হলেন। সর্বশেষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্র শিবিরের হাতে খুন হলেন ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক। বেশ কয়েকজনের রগও কেটে দিয়েছে তারা। এর রেশ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগকর্মী মাসুমও খুন হন। করিৎকর্মা পুলিশ ফারুক হত্যা মামলায় শিবিরের এক নেতাকে গুলি করেও মেলে ফেলেছে ইতিমধ্যে। এ নিয়ে এ বছরই তথাকথিত ছাত্ররাজনীতির বিষাক্ত থাবায় এগারো জন ছাত্র খুন হলেন। এভাবে হত্যার মিছিলে লাশের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। এর যে রাশ টানা হবে তারও কোন লক্ষণ নেই। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো তাদের গঠনতন্ত্রে ছাত্র সংগঠনকে অংগ সংগঠন থেকে বাদ দিয়ে সহযোগী সংগঠন হিসেবে রাখলেও আগের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। ছাত্র সমাজকে লাঠি হিসেবে ব্যবহার করার প্রচন্ড আকর্ষণ থেকেই তারা ছাত্রদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে তাদের লেজ হিসেবে তাদের রেখে দিয়েছে। ফলে গোড়ায় গলদ রেখে সুষ্ঠু ছাত্র রাজনীতির জন্য যতই চিৎকার করা হোকনা কেন তা কোন কাজে আসবেনা।

একদিকে আবাসন সংকট, বছর বছর ফি বৃদ্ধি, প্রশাসনের হুমকি অন্যদিকে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের নির্যাতন এই হলো বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিত্র। আজ বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিত্র একই। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, ছাত্র নির্যাতনের নিরাপত্তাহীন ফ্যাসিষ্ঠ কারাগারে বন্দী আমরা নিজেরা, আমাদের শিক্ষা জীবন। আবু বকরের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে যখন সরকারের মন্ত্রীরা বলেন, “তারা বিব্রত বোধ করছেন”, “এরকম ঘটনা ঘটতেই পারে” তখন আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না কারা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্ত্রাসীদের কাছে ইজারা দিয়েছে।

ছাত্র রাজনীতির এ নোংরা রূপটির উদ্ভব হয়েছিল ১৯৫৮ সালে পাকিস্থানে সামরিক শাসন শুরু হলে। ওইসময় দেশপ্রেমিক প্রগতিশীল ছাত্রদের দমিয়ে রাখতেই তৈরী করা হয়েছিল সরকারের অনুগত ছাত্র নামের গুন্ডাবাহিনী। তবে এর আগে এ রকমের দখল পাল্টা দখলের রাজনীতি ছিলনা। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিজয়ী হলেও ছাত্ররাজনীতিতে সংঘাত সৃষ্টি হয়নি। মুসলিম লীগের সমর্থক তৎকালীন মুসলিম ছাত্রলীগের যারা শাহ আজিজ গ্রুপ নামে পরিচিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসগুলোতে থাকতেন। আওয়ামীপন্থী ছাত্রলীগ তাদের কখনও উৎখাত করার চেষ্টা করেনি।
তবে সামরিক শাসন শুরু হওয়ার পরই ছাত্র ও যুবকদের মধ্যে কোন্দল সংঘাত ও দ্বন্দ্ব তৈরী হয়। আইয়ুব খানের গভর্নর মোনায়েম খানের পৃষ্ঠপোষকতা ও গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্যে গঠিত হয় এনএসএফ বা ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশন নামক ছাত্র সংগঠন। এদের দৌরাত্ম্য, গুন্ডামি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমেই শুরু হয় ছাত্র রাজনীতির কলংক। ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পাচপাত্তু’ নামে মোনায়েম খানের অনুগ্রহভাজন এক ছাত্রনেতার উত্থান ও একসময় পতন হয়। পাচপাত্তুই ছাত্র রাজনীতিতে হত্যার রাজনীতির প্রবর্তন করে। তবে গণতন্ত্রকামী ছাত্রনেতারা তখন এ ধরনের কলুষিত রাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর ছাত্রলীগ নেতাদের ওপর পাচপাত্তুর ভুত ভর করে। শুরু হয় হত্যার রাজনীতি।
স্বাধীনতা পরবর্তীতে দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের দ্বারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধানের নেতৃত্বে ১৯৭৪ সালের ৪ঠা এপ্রিল রাত সোয়া দুইটার দিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমএ’র দ্বিতীয়পর্বের ছাত্র নাজমুল হক কোহিনূর, এমকম প্রথম পর্বের ছাত্র মোহাম্মদ ইদ্রিস, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষের ছাত্র রেজওয়ানুল, একই বিভাগের প্রথমবর্ষের ছাত্র সৈয়দ মাসুম মাহমুদ, আবুল হোসেন, এবাদ খান এবং এমকম প্রথমপর্বের ছাত্র বশিরুদ্দিন আহম্মদ জিন্নাহকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের টিভি রুমের বাইরে সারিবদ্ধভাবে দাড় করিয়ে নৃশংসভাবে ব্রাশফায়ার হত্যা করা হয়। পরে তাদের একই হলের পানির ট্যাঙ্কে ফেলে রাখা হয়। ভোরে ট্যাপ ব্যবহার করতে গেলে পানির বদলে রক্ত বের হয়। খুনের সঙ্গে সাধারণ ছাত্রদের আতংকিত করতেই এ কাজ করেছিল খুনীরা।
ঐ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধান হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয়ায় দু’দিন পরই গ্রেপ্তার হন। একটি তদন্ত কমিটি শফিউল আলম প্রধানসহ তার সহযোগীদের অভিযুক্ত করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। বিচারে শফিউল আলম প্রধানসহ তার সহযোগীদের যাবজ্জীবন কারাদাণ্ড হয়। তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়। পরে প্রেসিডেন্ট ক্ষমা করে দেয়ায় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শফিউল আলম মাত্র ১০ টাকা জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেয়ে যান। এভাবে ছাত্রনেতারা(!) খুন করেও পার পেয়ে যান বলে ছাত্র রাজনীতিতে হত্যার রাজনীতি আর বন্ধ করা যায়নি। শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ ব্যালট বাক্স পর্যন্ত ছিনতাই করেছিল। পরে জিয়াউর রহমানের আমলেও ছাত্রদের মধ্যে তৈরী হয় সরকারের অনুগত বাহিনী। ছাত্রদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে জিয়াউর রহমান বিভিন্ন পন্থা নেন। জাতীয় পার্টির শাসনামলে স্বৈরাচার এরশাদও ছাত্রদের হাতে ব্যাপক আকারে অস্ত্র তুলে দিয়ে একটি অনুগত বাহিনী তৈরী করেন। স্বৈরাচার বিরোধি আন্দোলন দমন করতেই এরশাদের নির্দেশে সরকারী ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজ ছাত্রদের মিছিলে গুলি করেছিলেন। যার ফলে জীবন দিতে হয়েছিল ডা. মিলন, দেলোয়ারসহ আরও কয়েকজনকে।

১৯৯১ সালে বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপরই দলটির ছাত্র সংগঠন দখল করে নেয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসময় প্রতিপক্ষ দল ছাত্রলীগের সঙ্গে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়ে তারা। এছাড়া নিজ দলের নেতাকর্মীরাও এর বিষাক্ত ছোবল থেকে রেহাই পায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের আরিফ হোসেন তাজ, সূর্যসেন হলের ক্যাডার রতন, তমিসহ আরও কয়েকজন অভ্যন্তরীণ ছাত্রদলের কোন্দলেই খুন হন। বিএনপির ২০০১ সালের ১০ই অক্টোবর বিএনপি জোট সরকার দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতাসীন হয়। ১৩ই নভেম্বর জহুরুল হক হল দখল নিয়ে ছাত্রদল অস্ত্রের মহড়া দেয়। ওই ঘটনা তখন দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ১৭ই নভেম্বর সংসদে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার প্রস্তাব তোলেন। এতে বিরোধি দল আওয়ামী লীগের সাড়া না পেয়ে ১৯ই নভেম্বর তিনি ছাত্রদলের কার্যক্রম স্থগিত করেন। ২০০২ সালের ২ জুলাই ছাত্রদলের লাল্টু ও পিন্টু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে পিন্টু গ্রুপের দুজন বহিরাগত ক্যাম্পাসেই নিহত হয়। ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুন্নাহার হলে ছাত্রদল নেতারা তান্ডব চালায়। তবে ছাত্ররা এর প্রতিবাদে ঝাপিয়ে পড়লেও ছাত্রদল নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এতে জোট সরকার ফের শিক্ষাঙ্গণে লাঠিয়াল বাহিনীর প্রয়োজন অনুভব করে। পরে দলের তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান ছাত্রদলকে নিজের মতো করে পুনর্গঠন করেন। কিন্তু এ দলটিও হেন সন্ত্রাসী কাজ নেই যে তাতে যুক্ত হয়নি। ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জহুরুল হক হলের ছাত্রদল নেতা খোকন নিহত হন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল ইসলাম মামুনও গ্রুপিংয়ের ছোবলে বাচঁতে পারেননি। এছাড়াও জহুরুল হক হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমের হদিস আজ পর্যন্ত মেলেনি। জহুরুল হক হলে সভাপতি তানজীলের নেতৃত্বে মতিঝিলে তৎকালীন পুলিশের এলিট ফোর্স ‘RAB’-এর দু’সদস্যকে খুন করে। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পাশা নামের একজন ছাত্রদল ক্যাডার অস্ত্র নিয়ে গোলাগুলি করে দেশবাসির দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়।

অপরদিকে, ইসলামী ছাত্র শিবির পুরোটাই ক্যাডারভিত্তিক ছাত্র সংগঠন। ১৯৭১ সালে জামাতের ছাত্র সংগঠন ছিলো ইসলামী ছাত্র সংঘ। কিন্তু জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার কারণে মুল দলটি নিষিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে তার ছাত্র সংগঠন ছাত্র সংঘও নিষিদ্ধ হয়। তবে ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংঘ নাম পাল্টে রাখে ছাত্র শিবির। পরে স্বৈরাচার সরকারগুলোর আমলে শিবির তাদের ক্যাডারভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দেয়। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় শিবির অস্ত্রভিত্তিক ছাত্র রাজনীতিতে শক্তি সঞ্চয় করে।
শিবিরের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে এর আন্তর্জাতিক লিয়াজো। একটি আন্তর্জাতিক মুসলিম ছাত্র সংগঠন থেকে ছাত্র শিবির আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা ও আশ্রয় পায়। একেও পুরো পুরি কাজে লাগিয়েছে সংগঠনটি।
চার দলীয় জোট সরকারের আমলে তারা সরকারের অংশীদার হওয়ার কারণে এ অবস্থানকে পাকাপোক্ত করে। এসময় বিভিন্ন স্থান থেকে ছাত্রদলকেও তারা হটিয়ে দিয়ে তাদের দখল বহাল রাখে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রদল তাদের দখল সহজেই ছাত্রলীগের হাতে ছেড়ে দিলেও শিবির ছাড়েনি। ফলে ছাত্রলীগের সঙ্গে প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে যে কয়টি সংঘর্ষ হয়েছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেখানে শিবিরকে পাওয়া গেছে। তবে ছাত্রলীগের হামলার মুখে টিকতে না পেরে শিবির এখন আবাসিক হলগুলো ছেড়ে মেসে আশ্রয় নিয়ে অস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলেছে। গত ১৮ জানুয়ারী চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকার মিস্ত্রিপাড়ার ‘হক ভিলা’ নামের ইসলামী ছাত্রশিবিরের মেস থেকে পুলিশ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক উদ্ধার করে। এ সময় জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মীসহ সংগঠনের ১২ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তিনটি রিভলবার ও তিনটি এলজি এবং চতুর্থ তলার একটি ফ্যাট থেকে একটি রিভলবার ও নাইন এমএম পিস্তলের গুলিসহ ৩৭টি গুলি, বোমা তৈরির পাউডার পাওয়া যায়।
দেশের প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনেই ছাত্র শিবির সুকৌশলে অবস্থান করছে। শিবিরের দখলবাজিতে পড়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তারা একবার জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ও দখল করেছিল। তবে প্রশাসনের চাপে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। প্রতিটি সরকারের সময়ই সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনে প্রবেশ করে কোন্দল তৈরীর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত রয়েছে ছাত্র শিবিরের। ফলে শিবিরেরই একটি অংশ ছাত্রলীগ ও আরেকটি অংশ ছাত্রদল কর্মী হিসেবে কাজ করে। এরা ছাত্র লীগ বা ছাত্র দল করলেও শিবিরের স্বার্থ সংরক্ষণ করে। তবে এর ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়। অনেক সময় এরা শিবিরের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসায় শিবির কর্মী ইব্রাহিম ছাত্রলীগ করতে গিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে তাকে খুন করা হয়। শিবিরের এ কৌশলের কাছে দেশের প্রধান দুটি ছাত্র সংগঠনই হেরে গেছে। ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কোন ব্যবস্থা না নিলেও অন্তত বাস্তবতা স্বীকার করেছে। কিন্তু শিবিরের মুল দল হিসেবে জামায়াত পুরোপুরি ভিন্ন। তারা শিবিরের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কোন দিনই স্বীকার করেনি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলেও ছাত্রলীগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ছাত্রবাসগুলো দখলে মরিয়া হয়ে ওঠে। ১৯৯৮ সালে সূর্যসেন হল দখল করতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতা পার্থ নিহত হন। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বাগেরহাট গ্রুপ, শরীয়তপুর-মাদারীপুর গ্রুপ এবং গোপালগঞ্জ গ্রুপ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এদের মধ্যে সংঘর্ষ ছিল নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার। ওই সময় ছাত্রলীগের ৬৭ জন বিভিন্ন মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। ২০০১ সালে ১৬ আগস্ট জিয়া হলে রিভলবারের গুলিতে ফিরোজ নামে হল শাখা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি খুন হন।
১৯৯২ সালে ছাত্র লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভ্যন্তরীন কোন্দলে সামসুন্নাহার হলের সামনেই খুন হন। এজন্য ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে বিচার শুরু হলেও তারা ছাড়া পেয়ে যান। ১৯৯৪ সালে ছাত্রলীগ (শা-পা) ও ছাত্রলীগ (কা-চু)-র মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের টিয়ার সেলে মাস্টার্সের ছাত্র বুলবুলও নিহত হয়েছিলেন। এবারও একই ধরনের ঘটনার শিকার হলেন আবু বকর। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগের দখল, লুন্ঠন, নির্যাতনের তথাকথিত রাজনীতি চরম আকার ধারণ করেছে। তাদের হাত থেকে নারীরাও রেহাই পায়নি, ক’দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মোবাইল কোম্পানির উদ্যোগে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল, বিকেলের দিকে সেখানে উপস্থিত আওয়ামী ক্যাডাররা দর্শক সারিতে বসা মেয়েদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে, পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে মেয়েদের উদ্ধার করা হয়, তাদের ভয়ে কেউ পুলিশের কাছে অভিযোগও করার সাহস পায়নি। এর কিছু দিন আগে ২১শে ফেব্রুয়ারীতে এক ছাত্রলীগ নেতা(!) শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা এক মেয়েকে উত্তক্ত করা শুরু করে, এক পর্যায়ে মেয়েটির শরীরে স্পর্শ করলে মেয়েটি ও তার সাথে আসা ক’জন এর বিরোধ করলে ঐ বখাটে নেতা ও তার ক্যাডার বাহিনী মেয়েটিকে ও তার সঙ্গীদের বেদম প্রহার করে। কয়েক দিন আগে ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের রেশারেশিতে বেরিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যার মাঝে উল্লেখ্য, দেহ ব্যবসা ও ভর্তি বাণিজ্য। ছাত্রলীগের মহিলা শাখার নেতারা হলের মেয়েদেরকে দিয়ে এমনকি বাইরে থেকে মেয়েদের এনে হলে রেখে করে যাচ্ছে রমরমা দেহ ব্যবসা, তাতে প্রকাশিত হয়েছে কিছু কেন্দ্রীয় নেতার নাম, যাদের বাড়িতেও দেহ ব্যবসার জন্য মেয়েদের সরবরাহ করা হয়। আবার ভর্তি বাণিজ্যের জন্যও ভাগ দিতে হয় কিছু কেন্দ্রীয় নেতাদের। বর্তমানে এটাই ছাত্রলীগের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য, মেয়েদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ সর্বজন বিদিত। তবে এতো মাত্র শুরু, এই সরকারের মেয়াদ-কাল তো আরো বাকী প্রায় চার বছর।

একথা অবিসংবাদিত সত্য যে, জাতির সংকট ও বিপন্নতায় ছাত্রসমাজ সর্বদাই ত্রাণকর্তার ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ছাত্র রাজনীতির নামে আজ যা ঘটছে তা কোনভাবেই ছাত্র রাজনীতি নয়। তাই তাদের ঐতিহ্যময় ধারাবাহিকতা রাখতে প্রয়োজন এর মৌলিক সংস্কার। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার মধ্যে এর সমাধান নিহিত নেই। ছাত্র রাজনীতির ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা অতীতের মত ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকা উচিত এবং সে প্রেক্ষাপটে ছাত্র রাজনীতিকে অবশ্যই সুস্থ ধারার ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যদিকে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের স্বপক্ষে ধারার মতেঃ ছাত্র রাজনীতি মানেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বানিজ্য আর হল দখলের মত সব ন্যাক্কারজনক সব ঘটনা। গুটি কয়েক ছাত্রনেতা নামধারী সন্ত্রাসী ও তাদের অনুগামী দলের কাছে হাজার হাজার মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বনাদী হয়ে থাকার রাজনীতি নিশ্চয়ই সমর্থনযোগ্য নয়। ধর্মঘট, নিত্যনৈমিত্যিক গন্ডগোলে ক্লাশ বন্ধ হয়ে থাকার কারণে সেশন জট তৈরী হচ্ছে, দীর্ঘায়িত হচ্ছে ছাত্রজীবন। সে কারনেই ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেওয়াই মঙ্গলজনক।

একথা বলা অনাবশ্যক যে, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল একটি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ, দুটোই বুর্জোয়া শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত। এই বুর্জোয়া ধারার রাজনীতি মানুষকে কোনো নৈতিকতা দিতে পারে না, পারে শুধু তাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে এবং ছাত্রলীগ বা বুর্জোয়া ধারার ছাত্ররাজনীতির জন্য পুরো ছাত্ররাজনীতিকে দোষারোপ করাও সঠিক নয়। তবে বুর্জোয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায়ও, রাষ্ট্রের মধ্যে যদি একটি মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগে মারা যায়, সে জন্যও রাষ্ট্র দায়ী। রাষ্ট্র, সকল মানুষের দায়িত্ব নেয়ার শর্তেই তার জন্ম। সকলের সম্মিলিত সেই যুক্তিই রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখে। (যদিও বুর্জোয়া ব্যবস্থায় কথাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই লোক দেখানো; পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় রাষ্ট্রকে মূলতঃ ব্যবহার করা হয় বিত্তহীনের আওয়াজ বন্ধের লক্ষ্যে।) কিন্তু আমরা এ কোন রাষ্ট্রে বসবাস করি? যে রাষ্ট্রে রাষ্ট্র পরিচালকগণ সাধারণ মানুষের উপর বুলডোজার চালায়, হত্যা করে, সন্ত্রাস বানায় আর রাষ্ট্রের সম্পদ (জনগণের সম্পদ) দখল করে নেয় শুধু ভোগের নিমিত্তে। অন্যদিকে এই শাসকগোষ্ঠীর কারণে সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেমিকরা এবং তাদের সন্তানরা মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য হয়। শুধু এখানেই শেষ নয়, তাদের সন্তানরা যখন পড়তে যায় কোনো স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন তারা আবার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়। স্বাধীনতার ৩৯ বছরে শুধু শিক্ষাঙ্গনে শত শত শিক্ষার্থী সন্তানকে হারিয়েছে শত শত মাতা-পিতা ও বাংলাদেশ।

ছাত্র রাজনীতির অর্থ যদি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার আদায়ের রাজনীতি হয়, সৃজনশীলতা বিকাশের পথ হয়, তবে সেক্ষেত্রে ছাত্র রাজনীতি কোন ভাবেই অকাম্য হতে পারেনা। যেসব বিষয় ও সমস্যা ছাত্রজীবনে অহর্নিশি মোকাবেলা করতে হয় যেমনঃ শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, শিক্ষার মান ও পাঠক্রমের সময়পযোগী পরিমার্জন, আবাসিক সমস্যা, হলে খাবারের মান, লাইব্রেরী সমস্যা, খন্ডকালীন কর্মসংস্থান ইত্যাদিকে ঘিরে অধিকার চর্চা বা পথ নির্দেশনা কোনভাবেই দূষনীয় নয়।
আবার জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতির প্রতি প্রকৃতির ভাঙ্গাগড়ার মধ্যে প্রত্যক্ষ্য বা পরোক্ষভাবে অর্থবহ অবদান রাখার নিমিত্তে ছাত্র সমাজ সমকালীন রাজনীতিকে চিন্তার খোরাক কিংবা আদর্শের পথ বাতলে দেবে এবং তাতে জাতীয় রাজনীতি সমৃদ্ধ হবে। এটা স্মরণ রাখতে হবে যে, সার্বক্ষণিক রাজনীতি ছাত্রদের জন্য নয়। প্রাথমিক কর্তব্যে জ্ঞানার্জন বা ভাল ডিগ্রী নিয়ে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া। লেজুড়বৃত্তির ছাত্র রাজনীতি নয়, অর্থাৎ কোন রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন বা অংশ সংগঠন না হয়ে ছাত্র রাজনীতিকে সক্রিয় হতে হবে সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার আলোকে। মূল ধারার আনুগত্য নয় বরং নিজস্বতা থাকতে হবে। নগন্য সংখ্যক ছাত্র রাজনৈতিক দলের ধামাধরা হয়ে ছাত্র রাজনীতির দর্শন ও পথকে দুর্দশাগ্রস্থ ও সংঘাতময় করে তুলবে তা যে কোন দৃষ্টিতেই অনভিপ্রেত।
ছাত্রদের নৈতিক স্খলনের জন্য শিক্ষকরা তাদের দ্বায় এড়িয়ে যেতে পারেন না, এক্ষেত্রে যেখানে তাদের এগিয়ে আসার কথা, সেখানে শিক্ষকদের একটি অংশ তাদের নিজ স্বার্থের জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে দলীয় ক্যাডার হিসেবে। এসম্পর্কে মাত্র কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের বিভাগীয় সভাপতি আব্দুল্লাহ হেল কাফী কর্তৃক ঐ বিভাগেরই এক মহিলা প্রভাষককে যৌন হয়রানীর অভিযোগটি অগ্রগণ্য। কাফী ব্তমান ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় লালিত, আর এর প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার পক্ষে নগ্ন ভূমিকা পালন করছে। (আজও কর্তৃপক্ষ "প্রথম আলো" দৈনিকে তাদের বিবৃতি ছেপেছে) জনাব কাফী ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সরকার দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় রতঃ, এই ঘটনার পর তিনি তিনি ছাত্র লীগ ক্যাডারদের দিয়ে ইতিমধ্যে দুই বার মারামারির ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে তিনি একা নন, এমন আরো বেশ কিছু শিক্ষক নামধারী দলীয় চাটুকার রয়েছে, যারা দলীয় ও নিজ স্বার্থে ছাত্র রাজনীতির নামে সন্ত্রাসের বীজ ছড়িয়ে চলেছে, তাদের রুখতে হবে আগামীর সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখতে।

এখন সময় এসছে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ছাত্র রাজনীতিকে অনুধাবন করার এবং যৌক্তিকতার মাপকাঠিতে সবচাইতে শ্রেয় বিষয়গুলির আদলে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে সার্বিক সিদ্ধান্তও গ্রহণ করতে হবে।
ছাত্র রাজনীতির দিক নির্দেশনা নিয়ে অনেক ভাবনাই রয়েছে তার কিছু উপস্থাপন করছিঃ
(১) ছাত্রসংগঠন সমুহের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে তথাকথিত লেজুড়বৃত্তি সুলভ যোগাযোগ বন্ধ করতে হবে। তাদের রাজনৈতিক দলগুলির দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের অশুভ প্রয়াস রুখতে হবে।
(২) রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র সমাজের বিবিধ সমস্যা সমাধানে সততা এবং স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
(৩) ছাত্র সংগঠনে কেবল মাত্র ছাত্রদের অংশগ্রহণই নিশ্চিত করতে হবে।
(৪) ছাত্র সংগঠনের গতি-প্রকৃতিকে বিশুদ্ধ করতে শিক্ষকদের অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে হবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের জবাবদিহিতা ও দ্বায়বদ্ধতার ব্যবস্থা হতে পারে অন্যতম সহায়ক শক্তি। নতুবা কাফীদের দখলেই থেকে যাবে শিক্ষাঙ্গন।
(৫) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ব্যবস্থাপনাগত দিকে উন্নয়নের যথেষ্ঠ অবকাশ রয়েছে। যাতে, শিক্ষক, বিশেষ ব্যক্তিত্বসমূহ, সর্বোপরি সরকার এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
(৬) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতীর ভিত্তিতে কেবলমাত্র মেধাবী এবং সৎ ছাত্রগণই ছাত্র সংগঠনে নেতৃত্বের পদ অলংকৃত করতে পারে।

চটজলদি ছাত্র সংগঠনের সম্পূর্ণ শুদ্ধিকরণ হয়ত অসম্ভব। কিন্তু এ ব্যাপারে বিভিন্ন পর্যায়ে করণীয় অনেক কিছুই আছে। এছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে সুশীল সমাজের চিন্তাভাবনা ও দিক নির্দেশনা ছাত্র সংগঠনকে যথাযথভাবেই পরিশীলিত ও গ্রহণযোগ্য করতে পারে।

আমরা ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে নই বরং ছাত্ররাজনীতিকে যে কোন মূল্যে তার অশুভ বলয়, অনৈতিক ধারা থেকে ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা চাই, ছাত্র রাজনীতি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন হোক। যদি এমনটি প্রয়োজন পড়ে যে, সার্বিক কল্যানে ছাত্র রাজনীতি নির্দ্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হবে, তবে তাও ভেবে দেখা হোক। সন্ত্রাসীর পরিচয় হোক সন্ত্রাসী হিসেবে আর ছাত্রের পরিচয় ছাত্র হিসেবেই; কোন ভাবেই একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়। ছাত্র রাজনীতির এই সংকট মোকাবেলার সামর্থের উপর আমাদের ভবিষ্যত পথ চলা অনেকাংশেই নির্ভর করছে।

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উদ্যোগ ও আন্তরিকতায় ছাত্র রাজনীতির বর্তমান বিবর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটুক এই কামনা করছি।।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন